নিজস্ব প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রশিক্ষণ মাঠে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি সেনাসদস্যদের বিভিন্ন কৌশলগত মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন, বাঙ্কারে নেমে রণকৌশল সম্পর্কে অবহিত হন এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী অফিসার ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সফরকালে সেনাসদস্যদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক প্রস্তুত করা খাবার গ্রহণ ও চা পানও করেন প্রধানমন্ত্রী। তার আকস্মিক আগমনের খবরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাইরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। বিদায়ের সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা ৪২ মিনিট থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের সুতক্ষিরা এলাকায় মাদরাসাতুল মনোয়ারা কমপ্লেক্সের পেছনে হায়দারের কাঠবাগানে স্থাপিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৮ বীরের অস্থায়ী প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বিস্তীর্ণ প্রশিক্ষণ এলাকা পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন এবং চলমান মহড়ার বিভিন্ন ধাপ ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসার (সিও) তাকে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং অপারেশনাল পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।
এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান গ্রহণ, সমরকৌশল, আধুনিক সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। যিনি সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন।
একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন।
মাঠপর্যায়ে সরকার প্রধানকে কাছে পেয়ে সেনাসদস্যদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, কঠোর শৃঙ্খলা এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক, সাভার সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল এস. এম. আসাদুল হক, ৮১ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফেরদৌস মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, ৭১ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাওয়ার আলমসহ সেনাবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে সিংগাইর ত্যাগ করে জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।

