নিজস্ব প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে আবারও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। এতে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে দ্রুত পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার পাঁচটি উপজেলার অন্তত ১০ হাজার পরিবার।
পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়ক। পাশাপাশি বাদাম, সবজিসহ চলতি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতও পানিতে ডুবে গেছে। বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের অনেক পরিবার রান্নাবান্না করতে পারছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, রোববার (২৮ জুন) রাতে ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরে তা কমতে শুরু করে। সর্বশেষ বিকেল ৩টার তথ্যানুযায়ী, ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ব্যারেজ এলাকায় পানি কমলেও তিস্তার ভাটিতে হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে এখনো পানির চাপ কমেনি। ফলে অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
জানা গেছে, রোববার থেকে টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধি পায়। এতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ও খুনিয়াগাছ, হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও গড্ডিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এবং আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচাসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী চরের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই ঘরে পানি ঢুকে গেছে। বিছানার কাছাকাছি পানি চলে এসেছে, চুলাও ভিজে গেছে। ফলে রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, নদীর পানি বাড়ায় চরের বাদাম ও সবজির খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘরেও পানি উঠছে। এমনকি বাড়িতে যাওয়ার সড়কটিও ডুবে গেছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তাদের কয়েক দফা বন্যা ও নদীভাঙনের মুখে পড়তে হয়। তাদের দাবি, নদী খনন ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় বলেন, উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই নদীর পানি ওঠানামা করছে। ভাঙন রোধে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়া দুর্গতদের জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

