নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার প্রায় এক দশক পর মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, খসড়া চার্জশিটে বিভিন্ন দেশের ৪৬ জন ব্যক্তি এবং ১৮টি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, বাংলাদেশের ১০, শ্রীলঙ্কার ৮, ভারতের ৪, চীনের ৩, উত্তর কোরিয়ার ২ এবং জাপানের ১ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।
বর্তমানে অভিযোগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে আইনি মতামত পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম সুইফট (SWIFT) ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার ৩৯ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংক রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির তদন্ত চালিয়ে আসছে সিআইডি।
এক দশক পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এলেও বহুল আলোচিত এই রিজার্ভ চুরির ঘটনায় চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার জন্য এখন অপেক্ষা আইনি যাচাই ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের।

