ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, মাত্র তিন বছর আগে গঠিত তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) এবার নির্বাচনে জয় পেয়ে বহু দশকের পুরোনো রাজনৈতিক শক্তি দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগামকে (ডিএমকে) পরাজিত করেছে। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
সবচেয়ে বেশি চমক তৈরি হয়েছে ডিএমকে নেতা ও সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের পরাজয়ে। তিনি নিজের শক্ত ঘাঁটি কলাথুর আসনেও জয় ধরে রাখতে পারেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় অঘটন।
টিভিকের এই জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দলটির প্রধান ও জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের ব্যাপক জনসমর্থন। দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার দর্শকদের কাছে তিনি ন্যায়বিচারক ও সাধারণ মানুষের পক্ষের নায়ক হিসেবে পরিচিত। সেই পর্দার জনপ্রিয়তাই এবার রাজনৈতিক সমর্থনে রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের প্রভাব নতুন নয়। এর আগে এম জি রামাচন্দ্রন ও জে জয়ললিতাও অভিনয়জগৎ থেকে উঠে এসে রাজ্যের ক্ষমতায় বসেছিলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের উত্থান আগের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি নয়। কারণ, তিনি এখনো শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো বা দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই জনগণের আবেগ ও ভক্তদের সমর্থনকে মূল শক্তিতে পরিণত করেছেন।
এবারের নির্বাচনে টিভিকের ইশতেহারেও খুব বেশি ব্যতিক্রমী কিছু ছিল না। তবুও ভোটারদের বড় অংশ বিজয়ের প্রতি আস্থা রেখেছেন মূলত তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তার কারণে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ফলাফল তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে কেবল মতাদর্শ নয়, বরং জনপ্রিয়তা, আবেগ এবং জনসংযোগই ভবিষ্যতের রাজনীতিতে বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।

