সাইফুল ইসলাম তানভীর: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় চলমান এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে কেন্দ্র ফি বাবদ আদায় করা প্রায় ১২ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অস্বচ্ছতা। এতে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।
জানা যায়,উপজেলার ৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ৫৪৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ফরম পূরণের সময় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫১০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪৮৫ টাকা করে কেন্দ্র ফি নেওয়া হয়।
এরমধ্যে কেন্দ্রভিত্তিক হিসাবে সিংগাইর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত-অনিয়মিত ৯৭৭ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৩ টাকা, সিংগাইর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৯৮ জনের বিপরীতে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোকেশনালসহ ৪০৮ জনের কাছ থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৩৪ জনের কাছ থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং গোলাইডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৩১ জনের কাছ থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থ কক্ষ পরিদর্শক, সমন্বয়কারী, হল সুপার, কেন্দ্র সচিবসহ পরীক্ষা পরিচালনার বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের কথা থাকলেও বাস্তবে এর সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।
অভিযোগ উঠেছে, কোনো পূর্বনির্ধারিত বাজেট ছাড়াই খরচ চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কক্ষ পরিদর্শক অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন গার্ড ডিউটির জন্য মাত্র ২০০ টাকা দেওয়া হয়। যা যাতায়াত খরচেই শেষ হয়ে যায়। তাদের দাবি, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ইচ্ছেমতো খরচ করে বাকি অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করছেন।
তবে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের হল সুপার ও শান্তিপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে উত্তোলিত কেন্দ্র ফি’র টাকা ইউএনও ও কেন্দ্র সচিবের যৌথ হিসাবে থাকে এবং নির্ধারিত বাজেটের বাইরে ব্যয়ের সুযোগ নেই।
অন্যদিকে সিংগাইর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব এ কে এম আরিফুর রহমান বলেন, সরকারি কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকলেও প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচ সদস্যের একটি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি রয়েছে এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে খরচ করা হয়। তিনি অবশিষ্ট অর্থ নিজেদের মধ্যে বণ্টনের বিষয়টি স্বীকার করেন, তবে বাজেট দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বোর্ডে অর্থ প্রদানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এই খাত থেকে সম্মানী পেয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল ছালেক বলেন, তিনি ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তবে সম্মানী নির্ধারণ সম্পর্কে তার জানা নেই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ. হান্নান বলেন, কেন্দ্র ফি সরকার নির্ধারিত এবং ইউএনওর সভাপতিত্বে কেন্দ্র কমিটির মাধ্যমে বাজেট প্রণয়ন করা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্মানী পেয়ে থাকেন এবং খরচ বাজেটের মধ্যেই সমন্বয় করা হয়।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহার ভিন্ন তথ্য দিয়ে বলেন, এখনো কোনো কেন্দ্রের বাজেট তার কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি জানান, কেন্দ্র ফি’র টাকা কেন্দ্র সচিবদের কাছেই থাকে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

