রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় পদ্মা নদীতে বাস ডুবে গিয়ে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ২৩ জনকে ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সোজা পদ্মা নদীতে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়।
ঘটনার সময় বাসটিতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার আগে কয়েকজন যাত্রী নিচে নেমে গেলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতরেই ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে বা ভেসে উঠে প্রাণে বাঁচলেও বেশিরভাগই পানিতে নিমজ্জিত হন।
তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৬ ঘণ্টার টানা অভিযানে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়। এরপর শুরু হয় নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান, যার মাধ্যমে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুই নারীকে প্রথমে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলোকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।

