যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ২৬তম দিনে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যাদের সঙ্গে আলোচনা করছে তারা চুক্তি করতে ‘খুবই আগ্রহী’। তবে এর ঠিক আগের দিনই ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি করে আলোচনার খবরকে ‘ভুয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আলোচনায় নেতৃত্বে ভ্যান্স ও রুবিও
ট্রাম্পের মতে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি সমঝোতা চুক্তি খুব কাছাকাছি।
অন্যদিকে, একটি ইরানি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, তেহরান যুদ্ধ শেষ করতে ‘টেকসই’ কোনো প্রস্তাব শুনতে প্রস্তুত।
মাঠে চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও বাস্তবে সংঘাত থামেনি। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোনো চুক্তি ‘বাস্তবসম্মত’ বলে মনে হচ্ছে না। এরই মধ্যে ইসরায়েল নতুন করে ইরান-এ হামলা চালিয়েছে এবং তেহরান থেকেও তেলআবিব লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন বাড়ছে
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। সূত্র জানায়, মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সেনা শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কংগ্রেসে প্রস্তাব নাকচ
এদিকে, মার্কিন কংগ্রেসে এমন একটি প্রস্তাব আবারও নাকচ হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখার কথা বলা হয়েছিল।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮২ হাজার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আলোচনার আভাস থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে এখনো উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা কাটেনি। যুদ্ধ থামবে নাকি আরও বিস্তৃত হবে—তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হয় তার ওপর।

